বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
সৌদি, আমিরাত ও কাতারের তেল ও গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার কড়া হুঁশিয়ারি ইরানের Reading Time: 2 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা:
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারের মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে তেল সমৃদ্ধ দেশ সৌদি আরবকে। ইরান যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারকে পুরো দস্তুর অন্ধ করে দিয়েছে তেহরানের মিসাইল আর ড্রোন।
এবার সৌদির দিকে নজর ঘুরিয়েছে মোজতবা আলী খামেনির বাহিনী। দেশটিতে ক্রমাগত মিসাইল আর ড্রোন হামলা চালাচ্ছে তেহরান। মঙ্গলবার কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাশাপাশি সৌদি আরবেও শক্তিশালী মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদিতে ইরানের হামলার তীব্রতা বৃদ্ধিকে অশনিসংকেত মনে করছে মার্কিন দৈনিক ব্লুমবার্গ। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের ওপর দিয়ে উড়ে গেছে বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন। এর আগে রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির কাছে ইরান ছুঁড়েছে ব্যালিস্টিক মিসাইল।
যদিও এসব ড্রোন এবং মিসাইল ভূপাতিত করার দাবি করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকাতেও সাম্প্রতিক সময়ে হামলা চালিয়েছে ইরান।
যুদ্ধ শুরুর দিকে সবচেয়ে বড় হামলা আসে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি সৌদি আরামকোর ওপর। সেখানে ড্রোন হামলার পর রাস তানুয়া তেল শোধনাগারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াজাত করা এই স্থাপনাটি আরামকোর অন্যতম প্রধান শোধনাগার।
মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশ হয়েও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক খুব ভালো। এমনকি যুবরাজের পরামর্শে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে গুঞ্জন আছে। এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাও।
নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেছেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের ওপর কঠোর হামলা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
প্রতিবেদনটি বলছে, ট্রাম্প নিয়মিত আরব নেতাদের সাথে কথা বলছেন। প্রয়োজন মতো পরামর্শ গ্রহণ করছেন। ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুবরাজের পরামর্শ প্রয়াত সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহর কথার প্রতিধ্বনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সৌদি বাদশাহ ওয়াশিংটনকে সাপের মাথা কেটে ফেলতে চাপ দিয়েছিলেন। তবে বলতেই হবে সাপের সাথে লড়াই করা অত সহজ নয়। সেটিই এখন প্রমাণ করছে ইরান।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারের মতো সৌদিকেও উচিত শিক্ষা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আইআরজিসি বাহিনী। তেল সমৃদ্ধ এই দেশটির অহংকার গুঁড়িয়ে দিতে প্রস্তুত ইরানের অকল্পনীয় ড্রোন আর মিসাইলের ভাণ্ডার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও মানতে নারাজ ইরান। সর্বোচ্চ এবং শীর্ষ নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ নিয়ে তবেই শান্ত হবে পারস্য উপসাগরীয় দেশ ইরান।